চক্র
"বাবা..."
"আর কিছু বলতে হবে না। আমি রাজি"
হাঁপ ছেড়ে বাঁচলাম। বুড়োটা রাজি না হলে জোর করে বৃদ্ধাশ্রমে দিয়ে আসাটা বেশ ঝামেলার কাজ হত। সিনথিও অনেকদিন ধরেই খচখচ করছে।
"আর কিছু বলতে হবে না। আমি রাজি"
হাঁপ ছেড়ে বাঁচলাম। বুড়োটা রাজি না হলে জোর করে বৃদ্ধাশ্রমে দিয়ে আসাটা বেশ ঝামেলার কাজ হত। সিনথিও অনেকদিন ধরেই খচখচ করছে।
শোঁ শোঁ করে গাড়ি এগিয়ে চলেছে। আমার পাশে বাবা বসেছেন। কেউই কারো সাথে কথা বলছি না; কোথায় যেন সুর কেটে গেছে। হিন্দি গান চলছে। ছোটবেলায় বাবার সাথে গাড়িতে করে যখন যেতাম বাবা কীসব পুরনো দিনের গান ছেড়ে দিত। আমার অসহ্য লাগত। এখন এটা আমার গাড়ি, আমার যেমন খুশি তেমন গান ছাড়বো, কার কী এসে যায়?
বৃদ্ধাশ্রমের গেটে বাবাকে নামিয়ে দিয়ে গাড়িতে এসে বসলাম। কী ভেবে ড্রাইভারকে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে বললাম। গেটের দারোয়ানটা যেন অনেকদিনের পরিচিত কাউকে পেলেন, এমন হেসে হেসে বাবার সাথে কথা বলছেন। আমার খটকা লাগলো। মিনিট দশেক কথা বলে বাবা ভেতরে চলে যেতেই আমি আবার নামলাম গাড়ি থেকে, এগিয়ে গেলাম লোকটির কাছে।
"এই যে ভাই?"
"জ্বি বলুন?"
"আপনি উনাকে চেনেন?"
"হুমম চিনবো না কেন? বছর দশেক আগে উনি উনার আব্বাকে এখানে নামিয়ে দিয়ে যাবার সময় আমার সাথে পরিচয় হয়"
"ওহ আচ্ছা"
আশ্চর্য! আমি জানতাম আমার দাদা মারা গেছিলেন। ভালোমন্দ মেশানো অদ্ভুত এক অনুভুতি নিয়ে গাড়িতে এসে উঠলাম। একবার মনে হলো বাবাকে নিয়ে যাই। কিন্তু সিনথির মুখটা ভেসে উঠতেই সেই চিন্তা ঝেড়ে ফেললাম।
"এই যে ভাই?"
"জ্বি বলুন?"
"আপনি উনাকে চেনেন?"
"হুমম চিনবো না কেন? বছর দশেক আগে উনি উনার আব্বাকে এখানে নামিয়ে দিয়ে যাবার সময় আমার সাথে পরিচয় হয়"
"ওহ আচ্ছা"
আশ্চর্য! আমি জানতাম আমার দাদা মারা গেছিলেন। ভালোমন্দ মেশানো অদ্ভুত এক অনুভুতি নিয়ে গাড়িতে এসে উঠলাম। একবার মনে হলো বাবাকে নিয়ে যাই। কিন্তু সিনথির মুখটা ভেসে উঠতেই সেই চিন্তা ঝেড়ে ফেললাম।
বাসায় আসতেই শাওন; আমার বছরের ছেলেটা দৌড়ে এল।
"আব্বু! আব্বু! আম্মু বললো দাদাভাই নাকি মারা গেছে!"
"হুমম, তোমার দাদাভাই মারা গেছে"
"আব্বু! আব্বু! আম্মু বললো দাদাভাই নাকি মারা গেছে!"
"হুমম, তোমার দাদাভাই মারা গেছে"
মনে মনে ভাবছি, "হিস্টোরি রিপিটস ইটসেলফ" তাহলে কী একদিন আমারো এমন হবে?
গল্পঃ চক্র
© Om Ar || 'বৃত্তের' 'বাইরে' 'আমি'
No comments