অবুঝ
"কিরে? ভালো আছিস?"
জবাবে সে কিছু বলল না। লেজ নাড়া দেখে আমার ভয় হচ্ছে সেটি খুলে পড়ে না যায়! বয়স হিসেবে কুকুর সমাজে তরুণ সে।
"স্যান্ডউইচ খাবি নাকি, হুমম?" আমার স্যান্ডউইচটার একটা কোণা ভেঙে ছুঁড়ে দিলাম। শিকার করার ভঙ্গিতে লাফিয়ে গিয়ে সেটার ওপর হামলে পড়লো সে; একনিমিষে খেয়ে ফেললো। আবার আমার পায়ের কাছে এসে বসে সেই আশংকাজনক গতিতে লেজ নাড়তে লাগলো।
জবাবে সে কিছু বলল না। লেজ নাড়া দেখে আমার ভয় হচ্ছে সেটি খুলে পড়ে না যায়! বয়স হিসেবে কুকুর সমাজে তরুণ সে।
"স্যান্ডউইচ খাবি নাকি, হুমম?" আমার স্যান্ডউইচটার একটা কোণা ভেঙে ছুঁড়ে দিলাম। শিকার করার ভঙ্গিতে লাফিয়ে গিয়ে সেটার ওপর হামলে পড়লো সে; একনিমিষে খেয়ে ফেললো। আবার আমার পায়ের কাছে এসে বসে সেই আশংকাজনক গতিতে লেজ নাড়তে লাগলো।
রমনা পার্কে বসে আছি প্রায় ২০ মিনিট হলো। এখনো নীহা এসে পৌঁছালো না। মনে পড়ে একদিন কোন বন্ধুকে বলেছিলাম, "দোস্ত, কাউকে অপেক্ষা করানোর মজাই আলাদা"। কিন্তু আজকে টের পাচ্ছি, অপেক্ষমাণ ব্যক্তি কেমন মজা পায়। কুকুরটা একদৃষ্টে আমার স্যান্ডউইচ খাওয়া দেখছে, দু'কান খাড়া।
"এ ভাই, এমনে চেয়ে থাকিস না, আমার পেট খারাপ হয়ে যাবে।"
জবাবে একবার কান চুলকালো পা দিয়ে। খুব একটা স্বাস্থ্যবান নয়, কিন্তু খুব রোগাও নয় কুকুরটা। স্যান্ডউইচের এক-তৃতীয়াংশ বাকি, লোভ সামলে ছুঁড়ে দিলাম ওর দিকে। এমন সময় আমার কাঁধে কারো হাতের চাপ পড়লো। ঘুরে তাকিয়ে দেখি নীহা। সবুজ আমার প্রিয় রং, তাই অধিকাংশ সময়েই ও চেষ্টা করে আমার প্রিয় রংয়ের জামা পরতে। আজ সবুজ শাড়ি পরেছে। চুলগুলো হালকা ফুলিয়ে পেছনে ছড়ানো। মায়া মায়া চোখে সরু কাজলের রেখা; সুন্দর লাগছে ওকে।
"এ ভাই, এমনে চেয়ে থাকিস না, আমার পেট খারাপ হয়ে যাবে।"
জবাবে একবার কান চুলকালো পা দিয়ে। খুব একটা স্বাস্থ্যবান নয়, কিন্তু খুব রোগাও নয় কুকুরটা। স্যান্ডউইচের এক-তৃতীয়াংশ বাকি, লোভ সামলে ছুঁড়ে দিলাম ওর দিকে। এমন সময় আমার কাঁধে কারো হাতের চাপ পড়লো। ঘুরে তাকিয়ে দেখি নীহা। সবুজ আমার প্রিয় রং, তাই অধিকাংশ সময়েই ও চেষ্টা করে আমার প্রিয় রংয়ের জামা পরতে। আজ সবুজ শাড়ি পরেছে। চুলগুলো হালকা ফুলিয়ে পেছনে ছড়ানো। মায়া মায়া চোখে সরু কাজলের রেখা; সুন্দর লাগছে ওকে।
বেঞ্চির অপর পাশ ঘুরে ও আমার সামনে আসতেই ওর চোখে পড়লো কুকুরটা। পড়িমড়ি করে ১০ হাত দূরে চলে গেল ছোটখাট আর্তচিৎকার দিয়ে।
"এটা কী অভি?!"
"এটা কুকুর! এত ভয় পাচ্ছো কেন?"
"সরাও ওটাকে। কাছে রেখেছো কী মনে করে? কামড়ে দিলে?"
আমি কুকুরটার দিকে তাকালাম। কুকুরের চোখের ভাষা থাকলে হয়তো ওর চোখে এখন আমি রাজ্যের বিস্ময় আর বিষণ্নতা দেখতাম। কোমল গলায় বললাম,
"এ ভাই, দেখলি তো আমার উনি তোর ভয়ে আমার কাছেই আসছে না। একটু যাবি অন্য কোথাও?"
কুকুরটা কী বুঝল জানি না, একটা হাই তুলে হাত তিনেক দূরে গিয়ে শুয়ে পড়ে দুই থাবার মাঝে মুখ রেখে মৃদু লেজ নাড়তে লাগলো। পেছন থেকে নীহার কণ্ঠ পেলাম,
"কী হলো তাড়াচ্ছো না কেন?"
"তাড়াই নি বাট দূরে সরিয়েছি। আপনি এখন আসতে পারেন ম্যা'ম।"
"না না! আমি আসবো না। তুমি উঠে চলে এসো, অন্য কোথাও বসি।"
উঠে পড়লাম। প্রেমিকার ন্যাকামি সত্যিই কখনো কখনো বিরক্তির উদ্রেক করে।
"এটা কী অভি?!"
"এটা কুকুর! এত ভয় পাচ্ছো কেন?"
"সরাও ওটাকে। কাছে রেখেছো কী মনে করে? কামড়ে দিলে?"
আমি কুকুরটার দিকে তাকালাম। কুকুরের চোখের ভাষা থাকলে হয়তো ওর চোখে এখন আমি রাজ্যের বিস্ময় আর বিষণ্নতা দেখতাম। কোমল গলায় বললাম,
"এ ভাই, দেখলি তো আমার উনি তোর ভয়ে আমার কাছেই আসছে না। একটু যাবি অন্য কোথাও?"
কুকুরটা কী বুঝল জানি না, একটা হাই তুলে হাত তিনেক দূরে গিয়ে শুয়ে পড়ে দুই থাবার মাঝে মুখ রেখে মৃদু লেজ নাড়তে লাগলো। পেছন থেকে নীহার কণ্ঠ পেলাম,
"কী হলো তাড়াচ্ছো না কেন?"
"তাড়াই নি বাট দূরে সরিয়েছি। আপনি এখন আসতে পারেন ম্যা'ম।"
"না না! আমি আসবো না। তুমি উঠে চলে এসো, অন্য কোথাও বসি।"
উঠে পড়লাম। প্রেমিকার ন্যাকামি সত্যিই কখনো কখনো বিরক্তির উদ্রেক করে।
"আমি কুকুর এত ভয় পাই। তুমি জানতে আমি তোমার সঙ্গে দেখা করতে আসছি, তবুও ওটাকে এভাবে রেখেছিল কেন?" নীহার ঈষৎ রাগান্বিত ভঙ্গিতে বলল।
"কী করবো? কোত্থেকে আমার কাছে এসে লেজ নাড়তে লাগলো। তাড়িয়ে দিতে মায়া লাগছিল।"
"হয়েছে। তোমার আর মায়া"
"স্যরি ম্যা'ম। তা এখানেই বসবে নাকি কোন রেস্টুরেন্টে যাবে?
"বেশিক্ষণ টাইম নিয়ে আসতে পারি নি, অভি। এখানেই বসি, কিছুক্ষণ গল্প করে চলে যেতে হবে। আম্মু অনেক কড়া করে বলেছে"
"অ্যাজ ইউর উইশ, মাই লেডি"
"সো সুইট অফ ইউ"
"কী করবো? কোত্থেকে আমার কাছে এসে লেজ নাড়তে লাগলো। তাড়িয়ে দিতে মায়া লাগছিল।"
"হয়েছে। তোমার আর মায়া"
"স্যরি ম্যা'ম। তা এখানেই বসবে নাকি কোন রেস্টুরেন্টে যাবে?
"বেশিক্ষণ টাইম নিয়ে আসতে পারি নি, অভি। এখানেই বসি, কিছুক্ষণ গল্প করে চলে যেতে হবে। আম্মু অনেক কড়া করে বলেছে"
"অ্যাজ ইউর উইশ, মাই লেডি"
"সো সুইট অফ ইউ"
অনেকক্ষণ থেকে একটা লোককে আমি অন্যমনস্ক ভঙ্গিতে দেখছি। নীহা কিছুটা বাচ্চা বাচ্চা স্বভাবের, সে রীতিমতো হাত পা নেড়ে কথা বলে যাচ্ছে আর আমি শুনে যাচ্ছি। প্রথমে অন্যমনস্ক থাকলেও হঠাৎ করেই লোকটার দিকে আমার মনোযোগ গেল। কেন গেল আমি নিশ্চিত না তবে আমার মনে হলো সে কয়েকবার আমাদের দিকে তাকিয়েছে। এমন অস্বাভাবিক কিছু না, পার্কে জুটিদের দিকে মানুষ তাকায়ই, কিন্তু লোকটার দৃষ্টিতে এমন কিছু ছিল যা আমার মনোযোগ কেড়ে নিল। কিছুক্ষণ পর চলে গেল। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছে।
"বুঝলে? তারপর সিমির আাম্মু আমাদেরকে ইনস্ট্যান্ট কেক বানিয়ে খাওয়ালো। তুমি বিলিভ করবে না অভি, এত মজা আন্টির রান্না!" নীহা মহা উৎসাহে ওর ফ্রেন্ডের বাসার কাহিনী বলছে। এমন সময় পেছন থেকে একটা হাত আমার মুখের ওপর চেপে বসলো এবং নীহা হঠাৎ চুপ করে গেল। চকচকে ছুরির ফলাটা সন্ধ্যের ম্লান আলোতেও বেশ ঝকঝক করছে আমার সামনে। আরেকটি লোক নীহাকে মুখ চেপে ধরলো।
"একদম নড়বেন না স্যার। আমরা ঝামেলা পাকাইবার চাই না, আশা করি আপনেও চান না।" মোটা গলায় পেছনের লোকটি বলল।
আমি রাগে হিংস্র হয়ে উঠলাম। কিন্তু সে ছুরিটা আমার গলায় ধরল।
"খ্যাপেন ক্যান? গার্লফ্রেন থাকলে বুঝি স্যারগো মাথা একটু বেশিই গরম হয়।" খ্যাক খ্যাক করলো।
"ছাড় হারামজাদা। তুই জানিস আমি কে?" আমি কথাটা বললাম, কিন্তু জানি আমি অতি সাধারণ মানুষ, আমজনতা। আমি কোন রাজনীতি করা বড় ভাই, কিংবা পুলিশের ওসির ভাগিনা নই। নীহার দিকে তাকিয়ে মনে হলো এখনি ভ্যাঁ করে কেঁদে দেবে।
আমি রাগে হিংস্র হয়ে উঠলাম। কিন্তু সে ছুরিটা আমার গলায় ধরল।
"খ্যাপেন ক্যান? গার্লফ্রেন থাকলে বুঝি স্যারগো মাথা একটু বেশিই গরম হয়।" খ্যাক খ্যাক করলো।
"ছাড় হারামজাদা। তুই জানিস আমি কে?" আমি কথাটা বললাম, কিন্তু জানি আমি অতি সাধারণ মানুষ, আমজনতা। আমি কোন রাজনীতি করা বড় ভাই, কিংবা পুলিশের ওসির ভাগিনা নই। নীহার দিকে তাকিয়ে মনে হলো এখনি ভ্যাঁ করে কেঁদে দেবে।
"স্যার, আপনি যে-ই হন, আপাতত মানিব্যাগ আর ফোনটা দেন। ওই মতিন্যা, আফার কানের দুলডা খুল। আফা তো বেশ সুন্দর দেখি!"
আমি একনজর আশপাশে দেখলাম। কেউ নেই; পার্ক প্রায় ফাঁকা। আমার খেয়াল করা উচিত ছিল সন্ধ্যে নামতে চলেছে। ওরা টাকাপয়সা নিলে নিক। কিন্তু নীহার মতো তরুণী, ওরা খারাপ মতলবের কিছু করলে আমি কী করে পেরে উঠবো? ভাবতেই আমি ঘেমে যাচ্ছি।
আমি একনজর আশপাশে দেখলাম। কেউ নেই; পার্ক প্রায় ফাঁকা। আমার খেয়াল করা উচিত ছিল সন্ধ্যে নামতে চলেছে। ওরা টাকাপয়সা নিলে নিক। কিন্তু নীহার মতো তরুণী, ওরা খারাপ মতলবের কিছু করলে আমি কী করে পেরে উঠবো? ভাবতেই আমি ঘেমে যাচ্ছি।
আচমকা একটা ঘটনা ঘটলো। আমার গলায় ছুরি ধরে থাকা লোকটা আর্তনাদ করে উঠলো।
"উহ মাগো,মাইরালাইরো রে! শালার কুত্তা!" আমার গলা ছেড়ে সে মাটিতে বসে পা থেকে কুকুরটাকে ছোটানোর চেষ্টা করছে। কুকুরটা নাছোড়বান্দার মতো তার পা কামড়ে রেখেছে। রক্তে লাল হয়ে গেছে লোকটার পা। আমার কয়েক সেকেন্ড লাগলো ব্যাপারটা বুঝতে। তারপর লাফ দিয়ে উঠে ঘাসের মধ্যে একটা ইট দেখে তুলে নিলাম। সাগরেদটা নীহাকে ছেড়ে ওস্তাদের পা থেকে কুকুরটাকে ছাড়ানোর চেষ্টা করছে। নীহা বোবার মতো তাকিয়ে আছে।
"উহ মাগো,মাইরালাইরো রে! শালার কুত্তা!" আমার গলা ছেড়ে সে মাটিতে বসে পা থেকে কুকুরটাকে ছোটানোর চেষ্টা করছে। কুকুরটা নাছোড়বান্দার মতো তার পা কামড়ে রেখেছে। রক্তে লাল হয়ে গেছে লোকটার পা। আমার কয়েক সেকেন্ড লাগলো ব্যাপারটা বুঝতে। তারপর লাফ দিয়ে উঠে ঘাসের মধ্যে একটা ইট দেখে তুলে নিলাম। সাগরেদটা নীহাকে ছেড়ে ওস্তাদের পা থেকে কুকুরটাকে ছাড়ানোর চেষ্টা করছে। নীহা বোবার মতো তাকিয়ে আছে।
হঠাৎ তীব্র স্বরে কুকুরটা 'কেঁউ' ' কেঁউ' করে মাটিতে শুয়ে আর্তনাদ করতে লাগলো। তার গলায় ছুরি বসিয়ে দিয়েছে লোকটা। এতক্ষণে আমি লোকটাকে দেখলাম এবং চিনতে পারলাম, এই লোকটাই কিছুক্ষণ আগে আমার চোখে পড়েছিল। আমার হাতের ইটটা নিয়ে আর অপেক্ষা করলাম না। মাথা বরাবর চালিয়ে দিলাম। চিৎকার করার অবকাশটুকুও না পেয়ে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেল। তারপর দ্বিতীয় লোকটা, সে সামান্য আত্মরক্ষার চেষ্টা করলো কিন্তু শেষরক্ষা করতে পারলো না। তারও মাথায় মেরে শুইয়ে দিলাম। তাদের মাথায় হাত দিয়ে দেখলাম, ফাটে নি।
তারপর নীহার হাত ধরে ছুট লাগাতে গিয়ে থমকে গেলাম। ও দাঁড়িয়ে পড়ল। কুকুরটার কাছে গিয়ে হেঁচকা টানে নিজের আঁচলের একাংশ ছিঁড়ে কাতরানো কুকুরটার গলায় পেঁচালো। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে রয়েছি।
"অভি! প্লিজ এসো। ধরো। হসপিটালে নিয়ে যাই! অভি প্লিজ!!!" ব্যকুলতা ঝরে পড়ছে ওর প্রতিটি শব্দে।
আমি ছুটে গেলাম। কিন্তু তার আগেই নীহা কুকুরটাকে কোলে তুলে নিল।
তারপর নীহার হাত ধরে ছুট লাগাতে গিয়ে থমকে গেলাম। ও দাঁড়িয়ে পড়ল। কুকুরটার কাছে গিয়ে হেঁচকা টানে নিজের আঁচলের একাংশ ছিঁড়ে কাতরানো কুকুরটার গলায় পেঁচালো। আমি অবাক হয়ে তাকিয়ে রয়েছি।
"অভি! প্লিজ এসো। ধরো। হসপিটালে নিয়ে যাই! অভি প্লিজ!!!" ব্যকুলতা ঝরে পড়ছে ওর প্রতিটি শব্দে।
আমি ছুটে গেলাম। কিন্তু তার আগেই নীহা কুকুরটাকে কোলে তুলে নিল।
আমরা যতটা পারি দ্রুত এগোচ্ছি। নীহার কোলে কুকুরটা সেইসঙ্গে ও শাড়ি পরা, তাই ও দৌড়াতে পারছে না। নীহার কোলেই কুকুরটার হেঁচকি উঠল। আমি আহাম্মকের মতো চেয়ে থেকে দেখলাম কুকুরটার প্রাণবায়ু বেরিয়ে যাওয়ার দৃশ্য
নীহা বাচ্চা মেয়ের মতো কাঁদছে। কুকুরটার নিথর দেহ মাটিতে পড়ে আছে। আমি কী বলবো, কী করবো কিছুই বুঝতে পারছি না। মনে মনে বললাম,
"ভাই, কেন তোরা এত অল্পতেই নিঃশর্ত ভালোবাসা দিস?"
সন্ধ্যা নামছে চরাচরে। আকাশে রঙের খেলা জমছে।
(সমাপ্ত)
"ভাই, কেন তোরা এত অল্পতেই নিঃশর্ত ভালোবাসা দিস?"
সন্ধ্যা নামছে চরাচরে। আকাশে রঙের খেলা জমছে।
(সমাপ্ত)
গল্পঃ অবুঝ
© Omar || 'বৃত্তের' 'বাইরে' 'আমি'
© Omar || 'বৃত্তের' 'বাইরে' 'আমি'
No comments