৫ নং শিকার
"মাইয়াডার দিকে চায়া দেখসোস নি, মতিন্যা?" আনিকার ওপর থেকে দৃষ্টি না সরিয়েই বলল সাদেক। কোনকিছুর বিনিময়ে এক মূহুর্তের জন্যও দৃষ্টিটা সরাতে পারলো না সে; যদি দৃশ্যটার সামান্য অংশ অদেখা থেকে যায়?
"হ দাদা, পুরা সিনেমার হিরুইন। সেইরাম একখান জিনিস!" পাড়াত বড় ভাইয়ের সাথে সুর মেলালো মতিন। তাদের দুজনের আজ সকালে চায়ের দোকানে বসাটা সার্থক। এমন সুন্দর মেয়েকে জগিং করতে বহুদিন দেখেনি তারা। সামনেই এলাকার একমাত্র পার্ক; সকাল হতেই বড়লোক নারীপুরুষের ভিড় জমে জগিং করার জন্যে।
"যাহ, শালা!" গালাগাল দিয়ে উঠল সাদেক।
"কী হইল দাদা?"
"চায়ের কাপ থেইক্কা ধোঁয়া উইডা চশমা ঘুলা কইরা দিছে"
"চশমা খুইলা ফেলেন দাদা"
চশমা খুলে পুনরায় হতাশ গলায় গালি দিল সাদেক, সে প্রায় কিছুই দেখছে না। সব ঘোলাটে; যেন তার প্রচুর ঘুম আসছে। চোখ ডলেও লাভ না হওয়ায় দ্রুত চশমা মুছে চোখে দিল। মেয়েটা চলে গেছে। শ্রাগ করে চায়ের কাপের শেষ ফোঁটাটা তৃপ্তির সঙ্গে শেষ করে পেছন ফিরে বলল,
"ও রহমত, কত হইল রে?"
.
"হ দাদা, পুরা সিনেমার হিরুইন। সেইরাম একখান জিনিস!" পাড়াত বড় ভাইয়ের সাথে সুর মেলালো মতিন। তাদের দুজনের আজ সকালে চায়ের দোকানে বসাটা সার্থক। এমন সুন্দর মেয়েকে জগিং করতে বহুদিন দেখেনি তারা। সামনেই এলাকার একমাত্র পার্ক; সকাল হতেই বড়লোক নারীপুরুষের ভিড় জমে জগিং করার জন্যে।
"যাহ, শালা!" গালাগাল দিয়ে উঠল সাদেক।
"কী হইল দাদা?"
"চায়ের কাপ থেইক্কা ধোঁয়া উইডা চশমা ঘুলা কইরা দিছে"
"চশমা খুইলা ফেলেন দাদা"
চশমা খুলে পুনরায় হতাশ গলায় গালি দিল সাদেক, সে প্রায় কিছুই দেখছে না। সব ঘোলাটে; যেন তার প্রচুর ঘুম আসছে। চোখ ডলেও লাভ না হওয়ায় দ্রুত চশমা মুছে চোখে দিল। মেয়েটা চলে গেছে। শ্রাগ করে চায়ের কাপের শেষ ফোঁটাটা তৃপ্তির সঙ্গে শেষ করে পেছন ফিরে বলল,
"ও রহমত, কত হইল রে?"
.
সকালটা মন্দ নয়। হালকা হালকা কুয়াশার চাদর; তার মাঝ দিয়ে একটু একটু সূর্য উঠছে। উঁচু উঁচু ভবনগুলোর ওপর দিকটা রাঙা হয়ে গেছে।
"আনিকা, ফ্রেশ হয়ে জগিংয়ের ড্রেস চেঞ্জ করে খেতে আয়! সোয়া ন'টায় তোদের ভার্সিটিতে কী একটা ক্লাস না? খেয়ে রেডি হয়ে বেরিয়ে পড়"
"আসছি আম্মু"
বারান্দায় এসে দাঁড়াল আনিকা। নিচে চায়ের দোকানে ব্যস্ততা চরমে উঠেছে। প্রথমে একজন তার দিকে তাকাল, তারপর আর একজন, এমন করে করে দেখা গেল একটু পর প্রায় সবাই ক্ষণিকের বিরতিতে তার দিকে তাকাচ্ছে। বেশ অস্বস্তিকর। তার বারান্দায় দাঁড়ানোর ইচ্ছেটাই মরে গেল।
"আনিকা, ফ্রেশ হয়ে জগিংয়ের ড্রেস চেঞ্জ করে খেতে আয়! সোয়া ন'টায় তোদের ভার্সিটিতে কী একটা ক্লাস না? খেয়ে রেডি হয়ে বেরিয়ে পড়"
"আসছি আম্মু"
বারান্দায় এসে দাঁড়াল আনিকা। নিচে চায়ের দোকানে ব্যস্ততা চরমে উঠেছে। প্রথমে একজন তার দিকে তাকাল, তারপর আর একজন, এমন করে করে দেখা গেল একটু পর প্রায় সবাই ক্ষণিকের বিরতিতে তার দিকে তাকাচ্ছে। বেশ অস্বস্তিকর। তার বারান্দায় দাঁড়ানোর ইচ্ছেটাই মরে গেল।
সামনে ভালোবাসা দিবস আসছে। ইফতি প্রায় নাছোড়বান্দার মত চাপ দিচ্ছে পার্টিটে এটেন্ড করার জন্য। এই তো গতকালের কথা। ভার্সিটির ক্লাস শেষে ক্যান্টিনে ঢুকেছিল দুজনে হালকা খাবার খেতে।
"আনি বেবি, তুমি কী ডিসিশন নিলে?"
"এখনো জানি না যে"
"কী বলো! আর মাত্র ২ দিন বাকি! জানো আমার আংকেল লন্ডন থেকে এবছর আসছেন 'ভ্যালেন্টাইনস পার্টি' আমাদের সাথে সেলিব্রেট করতে। উনি বেশ এক্সপেনসিভ কিছু এলকোহল আনবেন, না খেলে মিস!"
"বেব, আমি ড্রিংকস লাইক করি না"
"একদিন খেলে কিছু হবে না। আমি তোমাকে এত রিকুয়েস্ট করছি তুমি রাখবে না? ইউ লাভ মি না?"
"আচ্ছা আচ্ছা!"
"চকলেটও আছে কিন্তু" বলে মুচকি হাসলো ইফতি।
মৃদু হেসে জবাব দিল আনিকা।
.
"আনি বেবি, তুমি কী ডিসিশন নিলে?"
"এখনো জানি না যে"
"কী বলো! আর মাত্র ২ দিন বাকি! জানো আমার আংকেল লন্ডন থেকে এবছর আসছেন 'ভ্যালেন্টাইনস পার্টি' আমাদের সাথে সেলিব্রেট করতে। উনি বেশ এক্সপেনসিভ কিছু এলকোহল আনবেন, না খেলে মিস!"
"বেব, আমি ড্রিংকস লাইক করি না"
"একদিন খেলে কিছু হবে না। আমি তোমাকে এত রিকুয়েস্ট করছি তুমি রাখবে না? ইউ লাভ মি না?"
"আচ্ছা আচ্ছা!"
"চকলেটও আছে কিন্তু" বলে মুচকি হাসলো ইফতি।
মৃদু হেসে জবাব দিল আনিকা।
.
"সাদেক মিয়া" রহমত বলল,
"আর কতদিন এমনে কইরা মাইয়াগো দিকে চায়া বেরাইবা? একখান বিয়া কইরা লও"
"ধুর মিয়া, কী যে কন!" দোকানের ভিড়ের মাঝে এসব বলতে হলো রহমতের? আক্কেল বলতে কিছুই নেই?
"আরে ঠিকই কই। শরমের কী পাইলা? তোমার হইলো জুয়ান বয়স, দেখতে শুনতে মাশাল্লা ভালা, সুন্দর চায়া একখান মাইয়া আনো ঘরে, আমরা ভাইবেরাদররা একটু খানাপিনা করমু"
"আইচ্ছা দেহি। মতিন্যা তুই থাক। আমি গেলাম, কামে দেরি হইতেছে"
উঠে চলে এল সাদেক। সে এলাকার বড়ভাই গোছের হলেও রহমত তাকে ভয় করে না। কারণ রহমতের পেটে পেটে অনেক বুদ্ধি, প্রায়শই তাকে রহমতের কাছে পরামর্শের জন্য আসতে হয়।
"আর কতদিন এমনে কইরা মাইয়াগো দিকে চায়া বেরাইবা? একখান বিয়া কইরা লও"
"ধুর মিয়া, কী যে কন!" দোকানের ভিড়ের মাঝে এসব বলতে হলো রহমতের? আক্কেল বলতে কিছুই নেই?
"আরে ঠিকই কই। শরমের কী পাইলা? তোমার হইলো জুয়ান বয়স, দেখতে শুনতে মাশাল্লা ভালা, সুন্দর চায়া একখান মাইয়া আনো ঘরে, আমরা ভাইবেরাদররা একটু খানাপিনা করমু"
"আইচ্ছা দেহি। মতিন্যা তুই থাক। আমি গেলাম, কামে দেরি হইতেছে"
উঠে চলে এল সাদেক। সে এলাকার বড়ভাই গোছের হলেও রহমত তাকে ভয় করে না। কারণ রহমতের পেটে পেটে অনেক বুদ্ধি, প্রায়শই তাকে রহমতের কাছে পরামর্শের জন্য আসতে হয়।
আজ বোধহয় সালমাকে দেখা হবে না সাদেকের। পুরো ১৫ মিনিট দেরি করে ফেলেছে সে। প্রতিদিন সকাল সাড়ে আটটার দিকে সালমা কলেজগেটের সামনে দিয়ে কাজে যায়। এখন বাজছে পৌনে ন'টা। সাদেক তৈরি হয়ে কাজে যাওয়ার পথে সালমাকে একনজর দেখার অপেক্ষা করে। সকাল সকাল উঠে স্নান করা সালমার অভ্যাস, তার আধাশুকনো চুলগুলো পিঠে ছড়িয়ে ঘোমটা টেনে হেঁটে যাওয়ার দৃশ্য বোধহয় সাদেকের জন্যে জগতের সবচেয়ে মধুর দৃশ্য। কখনো কখনো সেই ঘোমটার আড়ালে থাকা একজোড়া চোখের দৃষ্টি সাদেকের ওপর আসে, আর সেইসঙ্গে ভুবন ভোলানো মুচকি হাসি।
দেরি হয়েছে তো কী? সাদেক তবুও দাঁড়াবে। কোন কারণে যদি আজ সালমাও দেরি করে? এগুলো হলো আবেগপ্রবণ যুক্তি; যার কোন অর্থ নেই।
"এই যে ভাই? শোনেন"
"কে, আমারে বলতেছেন?"
পেছন ফিরল সাদেক। সুদর্শন একটা ছেলে। চুলের স্টাইল "আধাছিলা" ধরণের; দুইপাশে চুল নেই, উপরে ঝাকড়া চুল দুপাশে উপচে পড়ছে।
"হ্যাঁ, তোমাকেই বলছি"
আপনি থেকে তুমি তে? লক্ষণ তো ভালো না, পোলাটা গ্যাঞ্জাম করতে চায় মনে হয়-ভাবলো সাদেক।
"জ্বি বলেন?"
"সাদেক তোমার নাম?"
"হুম, ক্যান?"
"শালা, মাইর চিনস? এমন মাইর খাওয়াবো যে তোর নাম যে সেটা সাদেক ভুইলা যাবি। বাপের নাম জিজ্ঞেস করলে বলবি ইফতি। বুঝলি?"
"এই বেটা, কী হইছেরে তোর? আমারে চিনস তুই?"
প্রচণ্ড ঝগড়া হাতাহাতির পর্যায়ে যাওয়ার আগেই পথচারীরা তাদের আটকে ফেলল।
"তুই সকালে চা দোকানে বসে বসে আনিকার দিকে তাকিয়েছিলি। চোখ উপড়ে ফেলবো রে হারামজাদা।"
সাদেক জবাব পেল না। ইফতি চলে যেতে যেতে হুংকার ছাড়ল,
"....কথাটা মনে রাখিস। নয়তো আবার বলছি, বাপের নাম ইফতি করে দিব..."
দীর্ঘশ্বাস ছাড়লে সাদেক। সে এলাকার বড় ভাই। কিন্তু তাকে চলতে হয় বড়লোকদের আদেশে হুমকি-ধামকি, চাঁদাবাজি করে। ইফতি ছেলেটার কথাবার্তা শুনে সে বেশ বুঝেছে এর বিরুদ্ধে লাগতে যাওয়া মানে নিজের পায়ে কুড়াল মারা। নাম না জানলেও একবার ওর বাবার আদেশে এক লোককে হুমকি দিয়ে টাকা নেওয়ার সময় বারান্দায় ইফতিকে দেখেছিল সে। সালমা এল না, না এসে ভালো হয়েছে, সালমার সামনে অপমান সে সহ্য করতে পারতো না। সব মন্দের ভালো দিক আছে।
.
"এই যে ভাই? শোনেন"
"কে, আমারে বলতেছেন?"
পেছন ফিরল সাদেক। সুদর্শন একটা ছেলে। চুলের স্টাইল "আধাছিলা" ধরণের; দুইপাশে চুল নেই, উপরে ঝাকড়া চুল দুপাশে উপচে পড়ছে।
"হ্যাঁ, তোমাকেই বলছি"
আপনি থেকে তুমি তে? লক্ষণ তো ভালো না, পোলাটা গ্যাঞ্জাম করতে চায় মনে হয়-ভাবলো সাদেক।
"জ্বি বলেন?"
"সাদেক তোমার নাম?"
"হুম, ক্যান?"
"শালা, মাইর চিনস? এমন মাইর খাওয়াবো যে তোর নাম যে সেটা সাদেক ভুইলা যাবি। বাপের নাম জিজ্ঞেস করলে বলবি ইফতি। বুঝলি?"
"এই বেটা, কী হইছেরে তোর? আমারে চিনস তুই?"
প্রচণ্ড ঝগড়া হাতাহাতির পর্যায়ে যাওয়ার আগেই পথচারীরা তাদের আটকে ফেলল।
"তুই সকালে চা দোকানে বসে বসে আনিকার দিকে তাকিয়েছিলি। চোখ উপড়ে ফেলবো রে হারামজাদা।"
সাদেক জবাব পেল না। ইফতি চলে যেতে যেতে হুংকার ছাড়ল,
"....কথাটা মনে রাখিস। নয়তো আবার বলছি, বাপের নাম ইফতি করে দিব..."
দীর্ঘশ্বাস ছাড়লে সাদেক। সে এলাকার বড় ভাই। কিন্তু তাকে চলতে হয় বড়লোকদের আদেশে হুমকি-ধামকি, চাঁদাবাজি করে। ইফতি ছেলেটার কথাবার্তা শুনে সে বেশ বুঝেছে এর বিরুদ্ধে লাগতে যাওয়া মানে নিজের পায়ে কুড়াল মারা। নাম না জানলেও একবার ওর বাবার আদেশে এক লোককে হুমকি দিয়ে টাকা নেওয়ার সময় বারান্দায় ইফতিকে দেখেছিল সে। সালমা এল না, না এসে ভালো হয়েছে, সালমার সামনে অপমান সে সহ্য করতে পারতো না। সব মন্দের ভালো দিক আছে।
.
সন্ধ্যে গড়িয়ে এখন রাত ন'টা বাজতে চলল। আনিকা অনেক কষ্টে মা-বাবাকে ম্যানেজ করে এসেছে। শিমুকে দিয়ে ফোন করিয়ে বলেছে যে তার বাসায় বান্ধবীরা পার্টি দেবে। সত্যিই পার্টি দিচ্ছে বান্ধবীরা। কিন্তু সময়মতো সে ইফতির হাতে হাত রেখে চলে এসেছে "ভ্যালেন্টাইনস পার্টি"তে। ইফতিকে ভালোবাসলেও, কোথাও যেন ভরসার বেদিটা দুর্বল ঠেকছে তার কাছে।
"বেইব, তুমি এখানে বসে আছো?"
"একটু চিন্তা হচ্ছে যে। আব্বু আম্মু যদি জানতে পারে?"
"আরে জানবে না। চিল করো। আসো, টাকিলা টেস্ট করে যাও"
"আচ্ছা চলো। একচুমুকের বেশি কিন্তু খাবো না"
"এজ ইউর উইশ, মাই লেডি" হাত বাড়াল ইফতি। সে হাতে হাত রাখল আনিকা; ভরসার হাত রাখা। কিন্তু ইফতি সেটার মর্যাদা রক্ষা করবে তো?
"বেইব, তুমি এখানে বসে আছো?"
"একটু চিন্তা হচ্ছে যে। আব্বু আম্মু যদি জানতে পারে?"
"আরে জানবে না। চিল করো। আসো, টাকিলা টেস্ট করে যাও"
"আচ্ছা চলো। একচুমুকের বেশি কিন্তু খাবো না"
"এজ ইউর উইশ, মাই লেডি" হাত বাড়াল ইফতি। সে হাতে হাত রাখল আনিকা; ভরসার হাত রাখা। কিন্তু ইফতি সেটার মর্যাদা রক্ষা করবে তো?
একচুমুক থেকে কখন একবোতল শেষ হয়ে গেল বুঝতে পারলো না আনিকা। তার চারপাশের পৃথিবী দোদুল্যমান। ধীরে ধীরে আচ্ছন্ন হয়ে আসছে চারপাশ। একসময় সমস্ত চেতনা সেই আচ্ছন্নতায় ডুবে গেল। ওর ঘোরে থাকাকে পুঁজি করে ইফতি আশ মিটিয়ে নিল। এই তার ৫ নং শিকার। বেশ ভালো ছিল বলতেই হবে।
.
.
রহমতের চা দোকানে রোজকার মতো আড্ডা জমে উঠছে। আড্ডার মূল বিষয়, 'আত্মহত্যা'। গতকাল রাতে জাহাজ ব্যবসায়ী এহসান হকের একমাত্র মেয়ে আনিকা আত্মহত্যা করেছে। এই নিয়ে এলাকাজুড়ে উত্তেজনা। খবরের কাগজের শিরোনাম হয়ে গেছে।
"বুঝলা সাদেক মিয়া, কী যে জমানা আইলো! আরে বেটি কে কইছিল তোরে মাস্তি করতে? আবার কে কইল বিষ খাইতে?"
মকবুল চায়ের কাপ বিস্কুটের বয়ামের ওপর রাখলো,
"আরে ভাই, এগুলা হইল ঢং। আরেক কাপ দেও, রহমত মিয়া"
সাদেক পত্রিকার শিরোনামে আনিকার নাম আর চেহারা দেখে চিনতে পারলো। ইফতির হুমকিও মনে পড়ল। মুচকি হেসে চায়ের কাপ বেঞ্চের ওপর রেখে বলল,
"বুজলা মিয়ারা, এগুলা হইল বড়লোকি কারবার। হেরা নিজেরা মাস্তি লওয়ার ভাগ কাউরে নিতে দেয় না, কিন্তু নিজেরা এমন টান দেয় যে, এক্কেরে মাইয়াডারে উপরে পাডায় দিল। আরেক কাপ দেও রহমত, চিনি এক চামুচ বেশি দিবা"
"বুঝলা সাদেক মিয়া, কী যে জমানা আইলো! আরে বেটি কে কইছিল তোরে মাস্তি করতে? আবার কে কইল বিষ খাইতে?"
মকবুল চায়ের কাপ বিস্কুটের বয়ামের ওপর রাখলো,
"আরে ভাই, এগুলা হইল ঢং। আরেক কাপ দেও, রহমত মিয়া"
সাদেক পত্রিকার শিরোনামে আনিকার নাম আর চেহারা দেখে চিনতে পারলো। ইফতির হুমকিও মনে পড়ল। মুচকি হেসে চায়ের কাপ বেঞ্চের ওপর রেখে বলল,
"বুজলা মিয়ারা, এগুলা হইল বড়লোকি কারবার। হেরা নিজেরা মাস্তি লওয়ার ভাগ কাউরে নিতে দেয় না, কিন্তু নিজেরা এমন টান দেয় যে, এক্কেরে মাইয়াডারে উপরে পাডায় দিল। আরেক কাপ দেও রহমত, চিনি এক চামুচ বেশি দিবা"
গল্পঃ ৫ নং শিকার
© Omar || 'বৃত্তের' 'বাইরে' 'আমি'
No comments