সংসার লেখা
ঘড়িতে দশটা বাজে।
কিন্তু এমন টা হওয়ার কথা নয়। কিছুক্ষণ আগেও দেখলাম ঘড়িতে দশটা বাজছে। ঘড়িটা কি নষ্ট হয়ে গেলো নাকি?
- নীলা! এই নীলা!
নীলা রান্নাঘর থেকে দৌড়ে আসলো। হাতে খুন্তি। মাথায় মরিচের গুঁড়ো। অদ্ভুত ব্যাপার তো! যতদূর মনে পড়ে রান্না করতে গেলে মাথায় হয় হলুদের গুঁড়ো লাগে, নাহলে আটার ছিটা পড়ে। নতুন বিয়ে করা বউয়ের এটাই হওয়ার কথা। সিনেমাতেও যতদূর মনে পড়ে এটাই দেখেছি। চিন্তার বিষয় এই মেয়ের মাথায় মরিচের গুঁড়ো কিভাবে লাগলো?
- কি হলো ডাকলে কেন?
নীলার এই প্রশ্নে নিজেকে খুবই অসহায় মনে হলো। মাথায় তিনটা প্রশ্ন আসছে। প্রথমত, "ঘড়িটা নষ্ট নাকি?" দ্বিতীয়ত, " মাথায় মরিচের গুঁড়ো কিভাবে?" তৃতীয়ত " রান্নায় আজ ঝালের পরিমাণ কি সহনীয় মাত্রায়?" কিন্ত কোনটা ছেড়ে কোনটা করবো এটাই ভেবে পেলাম না।
- এই চুপচাপ বসে আছো যে? কি হয়েছে ডেকেছো কেন? আমার রান্না পুড়ে যাবে। তাড়াতাড়ি বলো।
- কিছু হয়নি। এমনি ডেকেছি। জীবন কেমন চলছে? সব ভালো?
নীলা হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইলো। আমি বেচারা উপরে ঝুলন্ত ফ্যানের দিকে তাকিয়ে পাখা গোনার চেষ্টা করলাম। উপায় নেই। নীলা মাত্রাতিরিক্ত রূপবতী। এমন রূপবতীর দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকা যায় না। মা ছোট বেলায় বলেছিলো, " দেখিস বাবা তোর জন্য অনেক সুন্দর একটা মেয়ে আনবো।"
শ্রদ্ধেয় জননী তার কথা যে এভাবে অক্ষরে অক্ষরে পালন করবেন, তা সেদিন বুঝতে পারিনি।
হঠাৎ নীলা বললো, " ওইদিকে তাকিয়ে আছো কেন? খিদে পেয়েছে? রান্না তো এখনও হয়নি। চকলেট আছে। খাবে?"
- কি চকলেট?
- সাফারি।
- কয়টা আছে?
- কয়টা আছে মানে? চকলেট দিয়ে পেট ভরবে নাকি?
আমি কি বলবো বুঝতে পারলাম না। কারণ ভয় করছে। নিজের বউয়ের প্রথম রান্না কেমন হবে কে জানে। ভয়ে ই মনে হয় খিদে চলে গেছে। তাই আপাতত অসহায় মানব মন চকলেট নামক ক্ষুদ্র বস্তুকে আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করছে। এখন আমি কি করি?
- "তুমি বড্ড আনমোনা। তুমি থাকো আমি যাই।"
দুপুরে রুম থেকে বের হয়ে দেখি খাবার টেবিলে খাবার রেডি। সবগুলো থেকে ধোঁয়া উঠছে। খাবার এর থেকে ধোয়া গুলো আমাকে বেশি অভিভূত করলো। কি সুন্দর একটা প্যাটার্নে ধোয়াগুলো এক এক করে হাওয়ায় মিলিয়ে যাচ্ছে। আহা!
- এই রাশেদ!
- হ্যা মা বলো।
- হা করে দেখছিস কি? বোস না। তোর আদরের নীলার প্রথম রান্না। খেয়ে দেখ কেমন।
আমি এতক্ষণ খেয়াল করিনি খাবার এর পাশাপাশি মানুষগুলোও আমার জন্য বসে আছে। নিজেকে রাজা রাজা মনে হচ্ছে। খালি কেউ একজন পাখা দিয়ে হাওয়া করলে হয়। কিন্তু আমরা আধুনিক হয়ে গেছি। উপরে ফ্যান লাগিয়ে দিয়েছি। সুইচ টিপলেই ঘুরতে থাকে। আরামের তাড়নায় স্বর্গীয় ম্যানুয়াল সিস্টেম আজ ধ্বংসের পথে।
খাওয়া দাওয়া শেষ করে নিজের বউয়ের দিকে তাকিয়ে নবাব সিরাজউদ্দোলার মতো হাসি যথাসম্ভব বিস্তৃত করে বললাম , "সেইইইই।"
নীলা হাসছে। আহা কি সুন্দর হাসি। মায়া লাগলো। মেয়েটা কত সুন্দর করে হাসতে পারে। ঠোঁটের কোণের তিল টা যেন হাসিটা কে আরও মমতাময়ী করে দিচ্ছে।
মেয়েরা নাকি অতিরিক্ত খুশি তে কান্না করে। অঝোর শ্রাবণ ধারা ঝরে ঝরে পড়ে স্নিগ্ধ মমতার আড়ালে। আচ্ছা ছেলেদের ক্ষেত্রে কি এরকম কোনো নিয়ম আছে?
২.
বিকেলে আরাম করে শুয়ে আছি। রোদ পড়েছে জানালার উপর। দেখতে তো ভালোই লাগছে।
নীলা বললো, " কি দেখছো?"
- প্রকৃতি দেখছি। আচ্ছা নীলা একটা জিনিস খেয়াল করেছো?
নীলা বললো, " কি?"
- প্রকৃতিটা তোমার মতোই সুন্দর।
ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম। চোখ যখন খুললো, তখন মনে হয় সন্ধ্যা। কারণ ঘরের সবগুলো আলো জ্বলছে। কিভাবে ঘুমালাম, কখন ই বা ঘুমালাম কিছুই মনে নেই। তবে যা মনে পড়লো তা হলো বিকেলে নীলা কে নিয়ে বের হওয়ার কথা। কিন্তু তা আমার ঘুমের বদৌলতে চাপা পড়ে গেছে। আচ্ছা মেয়ে টা কে কোথাও দেখছি না। রাগ করে চলে গেলো নাকি? বলা যায় না। নতুন বউ হলেও মেয়ে তো আধুনিক। একবার রাগ হলে কি করবে কে জানে।
- আম্মু নীলা কোথায়?
- তুই কি সেই খবর রাখিস? বিয়ের দুই বছর পর্যন্তও স্বামীরা বউ ছাড়া কিছু বুঝে না। আর তুই হয়েছিস উল্টো। ঘুম ছাড়া কিছু বুঝিস না।
- আচ্ছা সবই বুঝলাম। কিন্তু মেয়ে কই?
- ড্রয়িং রুমে বসে আছে। যাহ। কেঁদে চোখ ফুলিয়ে ফেলেছে। আর আমার সোনার টুকরো ছেলে ঘুমেই সব পার করে দিলো। আবার হাই তুলিস! কত বড় সাহস তোর! যাহ নীলার কাছে নাহলে মেরে এখনই তক্তা বানিয়ে দেবো। যাহ ভাগ!
আমি কেটে পড়লাম। থাকাটা রিস্কি। ড্রয়িং রুম এ যাওয়া দরকার। মনে হচ্ছে আদর্শ স্বামীর মতো বউয়ের রাগ ভাঙানো টা ই এখন কর্তব্য।
- এই রূপসী, রাগ করেছো?
- নাহ রাগ করিনি।
- রাগ করোনি তো কাঁদছো কেন? চকলেট খাবে? আমার কাছে নেই। তোমার কাছে যেটা আছে ওইটাই খেতে হবে মনে হয়। পেট হ্যাপি তো জীবন হ্যাপি।
নীলা বাকরুদ্ধ দৃষ্টিতে তাকালো। সেরেছে! এই মেয়ে মনে হয় রেগে গেছে। ব্র্যান্ড নিউ হাসবেন্ড এর কাছ থেকে মনে হয় এই জাতীয় কথা সে আশা করেনি।
নীলা উঠে চলে গেলো। আমি কি করবো ভেবে পেলাম না। রিমোট টা দেখা যাচ্ছে। টিভিতে এখন টম অ্যান্ড জেরি দেখানোর কথা। টিভি অন করে বসলাম সোফায়। গা টা এলিয়ে দিলে মন্দ হয় না।
রাতে আবার সেই বাহারি খাবার দেখে ইচ্ছে করলো বলি ," এটাও কি আমার আদরের বউ রান্না করেছে?" কিন্তু সাহস কুলালো না। নতুন বউ ঝাটা দিয়ে মারলে সেটা নিশ্চয়ই ভালো দেখাবে না। আচ্ছা এই মেয়ের হাতে ঝাড়ু মানাবে? একদিন হাতে ধরিয়ে দিয়ে দেখলে ভালো হয়। তবে তার আগে বলে নিতে হবে ট্রায়াল। নাহলে কপালে দুঃখ আছে।
খাওয়া দাওয়া শেষে আগের মতো "সেইইইই" বলতে পারলাম না। ডাইনিং হলে আমি ছাড়া দ্বিতীয় কোনো প্রাণী নেই। পুরো ফ্যামিলি ই আমার উপর রেগে গেছে। রাগের পুরো কম্বো প্যাক চলছে। ভাবা যায়!
আমি গুটি গুটি পায়ে রুমে প্রবেশ করলাম। নীলা ওপাশ ফিরে শুয়ে আছে। নীলার ঘুমন্ত স্নেহ মাখা মুখখানি দেখার ইচ্ছে ছিলো। কিন্তু যা মনে হচ্ছে সে আর এখন দেখা যাবে না। এই আশাভঙ্গের কারণেই কেন জানি মনটা একটু খারাপ লাগলো।
শুতে গিয়ে নিজের বালিশের উপর ছোট একটা চিরকুট এর মতো পেলাম। সেখানে লেখা - " তোমার ঘড়িটা আমি ঠিক করে দিয়েছি। কিন্তু এটার শব্দ আমার ভালো লাগে না। তাই আপাতত বন্ধ করে রাখলাম।"
চেয়ে দেখলাম নীলা বসে বসে আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে। আহা! কি মায়াবী হাসি।
নাফিস আহমেদ খান
কিন্তু এমন টা হওয়ার কথা নয়। কিছুক্ষণ আগেও দেখলাম ঘড়িতে দশটা বাজছে। ঘড়িটা কি নষ্ট হয়ে গেলো নাকি?
- নীলা! এই নীলা!
নীলা রান্নাঘর থেকে দৌড়ে আসলো। হাতে খুন্তি। মাথায় মরিচের গুঁড়ো। অদ্ভুত ব্যাপার তো! যতদূর মনে পড়ে রান্না করতে গেলে মাথায় হয় হলুদের গুঁড়ো লাগে, নাহলে আটার ছিটা পড়ে। নতুন বিয়ে করা বউয়ের এটাই হওয়ার কথা। সিনেমাতেও যতদূর মনে পড়ে এটাই দেখেছি। চিন্তার বিষয় এই মেয়ের মাথায় মরিচের গুঁড়ো কিভাবে লাগলো?
- কি হলো ডাকলে কেন?
নীলার এই প্রশ্নে নিজেকে খুবই অসহায় মনে হলো। মাথায় তিনটা প্রশ্ন আসছে। প্রথমত, "ঘড়িটা নষ্ট নাকি?" দ্বিতীয়ত, " মাথায় মরিচের গুঁড়ো কিভাবে?" তৃতীয়ত " রান্নায় আজ ঝালের পরিমাণ কি সহনীয় মাত্রায়?" কিন্ত কোনটা ছেড়ে কোনটা করবো এটাই ভেবে পেলাম না।
- এই চুপচাপ বসে আছো যে? কি হয়েছে ডেকেছো কেন? আমার রান্না পুড়ে যাবে। তাড়াতাড়ি বলো।
- কিছু হয়নি। এমনি ডেকেছি। জীবন কেমন চলছে? সব ভালো?
নীলা হতভম্ব হয়ে তাকিয়ে রইলো। আমি বেচারা উপরে ঝুলন্ত ফ্যানের দিকে তাকিয়ে পাখা গোনার চেষ্টা করলাম। উপায় নেই। নীলা মাত্রাতিরিক্ত রূপবতী। এমন রূপবতীর দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকা যায় না। মা ছোট বেলায় বলেছিলো, " দেখিস বাবা তোর জন্য অনেক সুন্দর একটা মেয়ে আনবো।"
শ্রদ্ধেয় জননী তার কথা যে এভাবে অক্ষরে অক্ষরে পালন করবেন, তা সেদিন বুঝতে পারিনি।
হঠাৎ নীলা বললো, " ওইদিকে তাকিয়ে আছো কেন? খিদে পেয়েছে? রান্না তো এখনও হয়নি। চকলেট আছে। খাবে?"
- কি চকলেট?
- সাফারি।
- কয়টা আছে?
- কয়টা আছে মানে? চকলেট দিয়ে পেট ভরবে নাকি?
আমি কি বলবো বুঝতে পারলাম না। কারণ ভয় করছে। নিজের বউয়ের প্রথম রান্না কেমন হবে কে জানে। ভয়ে ই মনে হয় খিদে চলে গেছে। তাই আপাতত অসহায় মানব মন চকলেট নামক ক্ষুদ্র বস্তুকে আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করছে। এখন আমি কি করি?
- "তুমি বড্ড আনমোনা। তুমি থাকো আমি যাই।"
দুপুরে রুম থেকে বের হয়ে দেখি খাবার টেবিলে খাবার রেডি। সবগুলো থেকে ধোঁয়া উঠছে। খাবার এর থেকে ধোয়া গুলো আমাকে বেশি অভিভূত করলো। কি সুন্দর একটা প্যাটার্নে ধোয়াগুলো এক এক করে হাওয়ায় মিলিয়ে যাচ্ছে। আহা!
- এই রাশেদ!
- হ্যা মা বলো।
- হা করে দেখছিস কি? বোস না। তোর আদরের নীলার প্রথম রান্না। খেয়ে দেখ কেমন।
আমি এতক্ষণ খেয়াল করিনি খাবার এর পাশাপাশি মানুষগুলোও আমার জন্য বসে আছে। নিজেকে রাজা রাজা মনে হচ্ছে। খালি কেউ একজন পাখা দিয়ে হাওয়া করলে হয়। কিন্তু আমরা আধুনিক হয়ে গেছি। উপরে ফ্যান লাগিয়ে দিয়েছি। সুইচ টিপলেই ঘুরতে থাকে। আরামের তাড়নায় স্বর্গীয় ম্যানুয়াল সিস্টেম আজ ধ্বংসের পথে।
খাওয়া দাওয়া শেষ করে নিজের বউয়ের দিকে তাকিয়ে নবাব সিরাজউদ্দোলার মতো হাসি যথাসম্ভব বিস্তৃত করে বললাম , "সেইইইই।"
নীলা হাসছে। আহা কি সুন্দর হাসি। মায়া লাগলো। মেয়েটা কত সুন্দর করে হাসতে পারে। ঠোঁটের কোণের তিল টা যেন হাসিটা কে আরও মমতাময়ী করে দিচ্ছে।
মেয়েরা নাকি অতিরিক্ত খুশি তে কান্না করে। অঝোর শ্রাবণ ধারা ঝরে ঝরে পড়ে স্নিগ্ধ মমতার আড়ালে। আচ্ছা ছেলেদের ক্ষেত্রে কি এরকম কোনো নিয়ম আছে?
২.
বিকেলে আরাম করে শুয়ে আছি। রোদ পড়েছে জানালার উপর। দেখতে তো ভালোই লাগছে।
নীলা বললো, " কি দেখছো?"
- প্রকৃতি দেখছি। আচ্ছা নীলা একটা জিনিস খেয়াল করেছো?
নীলা বললো, " কি?"
- প্রকৃতিটা তোমার মতোই সুন্দর।
ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম। চোখ যখন খুললো, তখন মনে হয় সন্ধ্যা। কারণ ঘরের সবগুলো আলো জ্বলছে। কিভাবে ঘুমালাম, কখন ই বা ঘুমালাম কিছুই মনে নেই। তবে যা মনে পড়লো তা হলো বিকেলে নীলা কে নিয়ে বের হওয়ার কথা। কিন্তু তা আমার ঘুমের বদৌলতে চাপা পড়ে গেছে। আচ্ছা মেয়ে টা কে কোথাও দেখছি না। রাগ করে চলে গেলো নাকি? বলা যায় না। নতুন বউ হলেও মেয়ে তো আধুনিক। একবার রাগ হলে কি করবে কে জানে।
- আম্মু নীলা কোথায়?
- তুই কি সেই খবর রাখিস? বিয়ের দুই বছর পর্যন্তও স্বামীরা বউ ছাড়া কিছু বুঝে না। আর তুই হয়েছিস উল্টো। ঘুম ছাড়া কিছু বুঝিস না।
- আচ্ছা সবই বুঝলাম। কিন্তু মেয়ে কই?
- ড্রয়িং রুমে বসে আছে। যাহ। কেঁদে চোখ ফুলিয়ে ফেলেছে। আর আমার সোনার টুকরো ছেলে ঘুমেই সব পার করে দিলো। আবার হাই তুলিস! কত বড় সাহস তোর! যাহ নীলার কাছে নাহলে মেরে এখনই তক্তা বানিয়ে দেবো। যাহ ভাগ!
আমি কেটে পড়লাম। থাকাটা রিস্কি। ড্রয়িং রুম এ যাওয়া দরকার। মনে হচ্ছে আদর্শ স্বামীর মতো বউয়ের রাগ ভাঙানো টা ই এখন কর্তব্য।
- এই রূপসী, রাগ করেছো?
- নাহ রাগ করিনি।
- রাগ করোনি তো কাঁদছো কেন? চকলেট খাবে? আমার কাছে নেই। তোমার কাছে যেটা আছে ওইটাই খেতে হবে মনে হয়। পেট হ্যাপি তো জীবন হ্যাপি।
নীলা বাকরুদ্ধ দৃষ্টিতে তাকালো। সেরেছে! এই মেয়ে মনে হয় রেগে গেছে। ব্র্যান্ড নিউ হাসবেন্ড এর কাছ থেকে মনে হয় এই জাতীয় কথা সে আশা করেনি।
নীলা উঠে চলে গেলো। আমি কি করবো ভেবে পেলাম না। রিমোট টা দেখা যাচ্ছে। টিভিতে এখন টম অ্যান্ড জেরি দেখানোর কথা। টিভি অন করে বসলাম সোফায়। গা টা এলিয়ে দিলে মন্দ হয় না।
রাতে আবার সেই বাহারি খাবার দেখে ইচ্ছে করলো বলি ," এটাও কি আমার আদরের বউ রান্না করেছে?" কিন্তু সাহস কুলালো না। নতুন বউ ঝাটা দিয়ে মারলে সেটা নিশ্চয়ই ভালো দেখাবে না। আচ্ছা এই মেয়ের হাতে ঝাড়ু মানাবে? একদিন হাতে ধরিয়ে দিয়ে দেখলে ভালো হয়। তবে তার আগে বলে নিতে হবে ট্রায়াল। নাহলে কপালে দুঃখ আছে।
খাওয়া দাওয়া শেষে আগের মতো "সেইইইই" বলতে পারলাম না। ডাইনিং হলে আমি ছাড়া দ্বিতীয় কোনো প্রাণী নেই। পুরো ফ্যামিলি ই আমার উপর রেগে গেছে। রাগের পুরো কম্বো প্যাক চলছে। ভাবা যায়!
আমি গুটি গুটি পায়ে রুমে প্রবেশ করলাম। নীলা ওপাশ ফিরে শুয়ে আছে। নীলার ঘুমন্ত স্নেহ মাখা মুখখানি দেখার ইচ্ছে ছিলো। কিন্তু যা মনে হচ্ছে সে আর এখন দেখা যাবে না। এই আশাভঙ্গের কারণেই কেন জানি মনটা একটু খারাপ লাগলো।
শুতে গিয়ে নিজের বালিশের উপর ছোট একটা চিরকুট এর মতো পেলাম। সেখানে লেখা - " তোমার ঘড়িটা আমি ঠিক করে দিয়েছি। কিন্তু এটার শব্দ আমার ভালো লাগে না। তাই আপাতত বন্ধ করে রাখলাম।"
চেয়ে দেখলাম নীলা বসে বসে আমার দিকে তাকিয়ে হাসছে। আহা! কি মায়াবী হাসি।
নাফিস আহমেদ খান
No comments