Header Ads

Header ADS

ক্যাসাবিয়াঙ্কা | 1826 | ফেলিসিয়া ডরোথিয়া হেমেন্স অনুবাদ: বাপ্পা দত্ত

জ্বলন্ত পাটাতনে দাঁড়িয়ে ছেলেটা,
জাহাজ ছেড়েছে বাকি সবে;
যুদ্ধের আগুনের লেলিহান শিখা,
ধায় মৃত্যুর উৎসবে।

তবু সেথা উজ্জ্বল ঋজু সে দাঁড়িয়ে,
ঝড়ের লাগাম যেন হাতে;
বীরের রক্তে গড়া গর্বিত প্রাণী,
ছোট্ট বালক চেহারাতে।

আগুন যতই হোক – যাবে না সে কভু
পিতার আদেশ ছাড়া কোথা;
পিতা তার প্রাণহীন পড়ে নিচতলে
কণ্ঠে শুধুই নীরবতা।

শুধায় বালক জোরে – ‘বলো, বাবা বলো
হয়েছে কি কাজ মোর সারা?’
জানা নেই প্রভু তার নিঃশেষ আজি
পায় না সে ছেলের ইশারা।

‘বলো, বাবা!’ আবার সে শুধায় সজোরে,
‘এবার আমি যেতে পারি যদি!’
গোলা গর্জনই শুধু ফেরে উত্তরে,
আগুন ছড়ায় নিরবধি।

ভুরুতে সে পায় সেই আগুনের আভা
আর তার কুঞ্চিত চুলে;
তাকায় সে অসহায় সাহসের সাথে,
ঝুঁকে মৃত্যুর মাস্তুলে।

চিৎকার করে ওঠে শেষ নিশ্বাসে,
‘বাবা! থেমে থাকতে কি হবে?’
যখন আরও দ্রুততায়, আগুন ছড়িয়ে যায়,
পালের চাদর সহ সবে।

গিলে নেয় জাহাজটা পুরো গোগ্রাসে,
উঁচু পতাকাটা গ্রাস করে,
আগুনের লকলকে জিভ যায় দেখা,
ছেলেটার মাথার উপরে।

তারপর বিকট এক বিস্ফোরণেতে –
ছেলে – ওহ! কি যে হয় তার?
দূরবাহী হাওয়া জানে সেই পরিণতি
বিদীর্ণ শিশু দেহটার!

মাস্তুল, অরিত্র, ধ্বজা সব সহ,
জাহাজের হয় অবসান,
সঙ্গে ধ্বংস হয় বেশি কিছু যদি
অবিচল সাহসী সে প্রাণ।



ক্যাসাবিয়াঙ্কা | 1826 | ফেলিসিয়া ডরোথিয়া হেমেন্স

অনুবাদ: বাপ্পা দত্ত

No comments

Powered by Blogger.