ভূতবাজি
ভূতবাজি
-ওয়াছিমুর রহমান
আজগুবি নয়, আজগুবি নয়, সত্যিকারের কথা-ভূতের সাথে কুস্তি করে গাত্রে হলো ব্যথা!
ভূত ধরার ব্যবসা করি তাও জানো না বুঝি?
বাঁশঝাড়ের ভূত, শ্মশানের ভূত, হরেক রকম পুঁজি।
আমাবস্যায় তুলাগাছের ভূত, মধ্যরাতে তাজা,
পূর্ণিমা রাতে কবরস্থানের ভূত সবাইকে দেয় সাজা!
ভূতগুলো যায় ভরদুপুরে আকাশপথে ঘুরে,
ফাঁদ ফেলে তার লেজের উপর বোতলে রাখি পুরে।
কঙ্কাল ভূত, গলাকাটা ভূত, দেখেছি কত ঘেটে-
জঙ্গলে থাকে গেছো ভূত, তাও দেখেছি চেটে।
কেউ জানে না এসব কথা কেউ বোঝে না কিছু,
কেউ ঘোরে না আমার মতো ভূতের পিছু পিছু।
তোমরা ভাবো তেঁতুলগাছের ভূত অমনি লুটায় ভুঁয়ে,
অমনি শুধু ঘুমায় বুঝি শান্তমতন শুয়ে।
আসল ব্যপার জানবে যদি আমার কথা শোনো-
বলছি যা, তা সত্য কথা, সন্দেহ নাই কোনো।
কেউ যবে তার রয় না কাছে, দেখতে নাহি পায়,
ভূতগুলো তাই ছটফটিয়ে এদিক-ওদিক চায়।
সেই সময়ে গুড়গুড়িয়ে পেছন হতে এসে-
ভূতগুলো ধপাস করে, ধরবে তোমায় ঠেসে।
ছোট ভূত, বড় ভূত, ভূত গভীর কালো,
জ্বীনগুলো নাকি ভূতের চেয়ে সবরকমেই ভালো!
গাছ-গাছালি, শেকড়-বাকড় সুদ্ধ সবাই গেলে,
কবিরাজ বলে পালায় ব্যামো, জ্বীনের দেয়া ওষুধ খেলে!
ডাইনি ভূত, পেত্নি ভূত, লম্বা ভূতের নাক-
শুনেছিলাম বিলের পানিতেও নাকি থাকে ভূতের ঝাঁক।
চাঁদের আলোয় একটা ভূতকেও ধরতে যদি পারো,
চাটলে পরে পেটের ব্যথা থাকবে না আর কারো।
জ্বীনের দেয়া পানিপড়া যদি ভক্তি করে খায়,
ল্যাংড়া লোকের ঠ্যাং গজাবে, সন্দেহ নাই তায়!
ঘরের পিছের বাঁশঝাড়ের ভূত থেকে বাঁচতে যদি চাও,
জঙ্গলের ভেতর ধ্যান করা সাধুর কাছে যাও।
খালপাড়ের ঐ তুলাগাছের ভূতটাকে ধরে,
বোতলে ভরে রেখে দিয়েছি, বড় যত্ন করে।
পাক্কা নতুন টাটকা জ্বীন এক্কেবারে দেশি,
দাম করেছি সস্তা বড়, ৯৯৯৯ টাকা শিশি!
[সুকুমার রায় এর 'ছায়াবাজি' কবিতা অবলম্বনে]
No comments