স্বপ্ন-৩
রুমে লুঙ্গি পরে
শুয়ে টিভিতে লুঙ্গির বিঞ্জাপন দেখতে দেখতে ভাবছিলাম "লুঙ্গি আবিষ্কার
হয়েছে বলেই ছেলে হয়ে নিজেকে ভাগ্যবান লাগে। আহা!" তখনি পাশের রুম থেকে খানিক
উত্তেজিত ভাবে নিলয় এসে আওয়াজ নামিয়ে বলল, "বন্ধু!! নতুন ক্লায়েন্ট আসছে।
সুন্দরী মেয়ে। অফিস রুমে বসে আছে। জলদি
![]() |
| সংগৃহীত |
মেয়েটা একটু এদিক ওদিক তাকালো তারপর আমার দিকে তাকিয়ে বলল
একটু সন্দেহের কন্ঠে বলল 'এটাই কী হার্ট ডিটেক্টিভ অর্গানাইজেশন? আর আপনিই কী
এখানের হেড?'
আমি বললাম 'জ্বী!'
মেয়েটা বলল 'আমি তো আরো প্রফেশনাল কাউকে দেখব ভেবেছিলাম।'
আমি হেসে বললাম 'প্রফেশনালিজম জিনিসটা চেহারায় থাকে
না।ম্যাম'। মেয়েটাও হাসলো!
আমি বললাম চা খাবেন না কফি? মেয়েটা বলল লেমন জুস। ভাগ্য
ক্রমে বাসায় লেবু ছিল। আমি ডাক দিলাম। "সাদি!" সাদি মেয়েটার পেছনে গেটের
দিকে এসে দাড়ালো। আমি বললাম "একটা লেবুর শরবত দিয়ে যাও।" অর্ডার করাতে
সাদি রেগে হাতা গুটাতে গুটাতে চলে গেল! বেচারা নিশ্চই এখন বটির সামনে বসে লেবু
কাটছে!
আমিও বুঝলাম পরিবেশটা অফিসের জন্য খুবই বেমানান। রান্নাঘরে
নিলয় তেলাপিয়া মাছ ভাজছে। সেই গন্ধে খারাপ লাগাটা আরো বেড়ে গেল।
মেয়েটা জানালো তার নাম কনা।সে একটা ছেলেকে ভালোবাসে। ছেলেটাকে পটাতে সাহায্য করতে হবে।
আমি বললাম বেশ তো! ফেসবুক আইডি দিন, নম্বর দিন থাকলে। নাহলে আমরাই বের করতে পারবো।
ঠিকানা জানা থাকলে ভালো। নাহলেও সমস্যা নেই। আরো ডিটেলস কিছু বলার থাকলে বলুন।
মেয়েটা বলল, 'সমস্যা হচ্ছে ও একটা মেয়েকে ভালোবাসে....'
দাঁড়ান! আমি মেয়েটাকে থামিয়ে দিলাম। বললাম আপনি আমাদের নিয়ম
পড়েন নি? কারো সম্পর্ক ভেঙে আমরা সম্পর্ক করতে সাহায্য করি না। ছেলেটাকে অবশ্যই
সিঙ্গেল হতে হবে।
মেয়েটা এবার কাঁদো কাঁদো গলায় বলল 'ভাইয়া প্লিজ একটু দেখেন
প্লিজ প্লিজ! ওকে ছাড়া আমি বাঁচবো না। আর ছেলেটা তো সিঙ্গেলই! মেয়েটা ওর ক্রাশ।ওকে
পাত্তা দেয় না!"
মেয়েটার অনুনয় বিনয়ে আমার হৃদয় গলিল নাহ। আমিও হার্ট
ডিটেক্টিভ! বললাম ছেলেটা তো অন্য মেয়েকে ভালোবাসে। আমার কিছুই করার নেই!
মেয়েটা চলে গেল।লেবুর শরবতটা আমি খেয়ে নিলাম!
ভাবলাম যাক বিদায় হলো। কিন্তু আপদ সবে শুরু! রাতে ফেসবুকে
ঢুকে দেখি আমাদের পেজে মেয়েটা মেসেজ দিয়েছে "ভাইয়া!"
আমি সিন করে রেখে দিলাম। কিছুক্ষন পর কনা মেয়েটা দুটো একটা
ছবি পাঠালো। একটাতে সুন্দর মদের গ্লাসে এক গ্লাস হারপিক, পাশে হারপিকের বোতল। আর
একটা সুইসাইড নোট। "আমার মৃত্যুর জন্য লাভ ডিটেক্টিভ অর্গানাইজেশন
দায়ী।" দেখে তো পুরো আকাশ থেকে পড়লাম।
তাড়াতাড়ি মেয়েটার নাম্বার খুঁজে ফোন দিলাম।ফোন অফ! পুরো ১০ মিনিট ধরে ফোন
দেই ফোন অফ! ফেসবুকে ঢুকে মেসেজ দিতে যাবো তখনি মেয়েটা কল করলো। ধরার পর শুনি
মেয়েটা হাসছে! "হিহি ভাইয়া একটু করে দেন না কাজটা" আমার মেজাজ খারাপ হয়ে
যাবার পরও শান্ত হয়ে বললাম করে দেব। ৩ দিন লাগবে ইনফর্মেশন কালেক্ট করতে। পেমেন্টেও
রাজী হয়ে গেল মেয়েটা। আমারো কেমন একটা লাগছিলো, মেয়েটাতো ছেলেটাকে ভালোবাসে,
ছেলেটা অন্য মেয়েকে, অন্য মেয়েটা আরেকটা ছেলেকে এভাবে তো চলতে দেওয়া যায় না! সাদি
আর নিলয়ের সাথেও কথা বললাম। ওরা বলল করে দে ব্যাটা।মেয়েটা সুন্দর!"
নিলয় আর সাদির কথা একটু বলি। নিলয় এর বিশেষত্ব হলো সে ২৩ টা
প্রেম করেছে, আর ২৮ টা ছ্যাকা খেয়েছে। তাই এই দিক গুলাতে ও বেশ এক্সপার্ট।
অন্যদিকে সাদি সাইকোলজিতে পড়ে। মনোস্তাত্বিক ব্যাপার গুলোতে ও বেশ কাজে আসে।
সকাল থেকে কাজ শুরু করে দিলাম। তিনজন মিলে ক্লায়েন্টের
টার্গেটেড ছেলেটার আইডির ডাটা এনালাইসিস করা শুরু করে দিলাম। ছেলেটার নাম আকিব
মাহফুজ। বাসা ভাঙাব্রিজ মিরপুর। কনার বাসাও আসেপাশে। আরো জানা গেল ছেলেটার
গানবাজনার শখ! কবিতা ভালোবাসে। জিমে যায়। আননোন মেয়েদের আন্দাজে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট
পাঠায়। তারপরো দেশের প্রতি খুব আবেগী! ৪,৫ টা দেশের গান কভার করেছে। ছেলেটা ৮ বছর
তার গ্রামে যায় না। এছাড়া আর বিশেষ কিছু জানা গেল না।
ফেসবুক থেকে ছেলেটা বন্ধুদের সাথে শুক্রবার পার্কে গান করে।
আজকেও শুক্রবার। সাদিকে নিয়ে চলে গেলাম পার্কে। সাথে একটা গিটার। আকিব ছেলেটা
বন্ধুদের সাথে গান করছে। আমরা গিয়ে বললাম। ভাই আমরা একটু বসি আপনাদের সাথে? খুব
আন্তরিকতার সাথেই নিয়ে নিল আমাদের। সাদি গান করলো। আমি কিছুক্ষন গিটার বাজালাম।
কিন্তু পুরোটা সময়ই সাদি আর আমি ব্যাস্ত থাকলাম আকিবের সাথে খাতির করতে। বেশ ভালো
সম্পর্ক হলো। আমাদের নম্বর নিয়ে গেল। সেখানে নতুন করে জানা গেল ও একটু ডিপ্রেশনে
আছে। মনেহয় যে মেয়েটাকে ওর ভলোলাগে সে রিপ্লাই দিচ্ছে না! এটা একটা ভালো ক্লু।
আমার ক্লায়েন্ট আর আকিব ফেসবুক ফ্রেন্ড।আর
শুধু ফেসবুকেই কানেক্টেড। এই ক্রাশ মেয়েটাকে দূরে সরাতে না পারলে একটু সমস্যা। এই
কাজ গুলো করতে ইচ্ছা না করলেও কাজের স্বার্থে করতে হচ্ছে। আইটি স্পেশালিস্ট নিলয়
নিলয়ের ক্রাশ মেয়েটার আইডি হ্যাক করার চেষ্টা করলো। কিন্তু পারলো না। কদিনের মধ্যে
নাকি পুরো শিখে যাবে। রেগে টেগে ক্রাশ মেয়েটার আইডি ডিসেবল করে দিলো। মেয়েটার নামে
একটা ফেইক আইডি খোলা হলো। আকিব ছেলেটা যথারীতি মেয়েটাককে খুঁজে রিকুয়েস্ট পাঠালো
আবার হাইও বলল। ফেইক আইডি থেকে রিপপ্লাই দেওয়া হলো "আরে তোমাকে রেগে ব্লক
করলাম আবার ২য় আইডিতেও রিকুয়েস্ট পাঠাইছো?আজাইরা যতসব" তারপর আবার ব্লক করা
হলো। পথের কাঁটা সাফ!
আকিব তো পুরো ভেঙে পড়লো।
এবারের কাজ খুব সহজ কনা মেয়েটাকে এবার বলা হলো "আপনার
কি মন খারাপ" বলে মেসেজ দিতে। বলা হলো বেশি চ্যাটিং করবেন না একবারে।
পরদিন কনাকে লাল শাড়ি পরে প্রফাইল পিক দিতে বলা হলো। আকিব
একটা মেয়ের শাড়ি পরা পিকে " সুন্দর হইছে" বলে কমেন্ট করছিলো সেটা আমাদের
চোখে পড়ে গেছে। আকিবের পছন্দ অপছন্দের কথা জানানো হলো কনাকে। সেই সূত্র অনুস্বরন
করে দুদিনের মধ্য তাদের সম্পর্ক বেশ ভালো হয়ে গেল। কনা একটা দেশাত্ববোধক গানও
শিখলো। গানটা নাকি ও আকিবকে ফোন দিয়ে শুনিয়েছে। কয়েকটা কবিতা লেখে দিলাম কনাকে
সেগুলোও সে আকিবকে পাঠায়।কনাও দু চারটা লেখার চেষ্টা করে আমাকে দেখালো। আমার ধারণা
কনার গুলো বেশি সুন্দর হয়। কারণ সে তার অনুভুতিটা
থেকে লেখে। এই কেসটা খুব একটা কঠিন ছিল না। বাকীটা কনাই সামলে নিল। কনা
মাঝে মাঝে আমাকে খবরাখবর বলত। প্রচন্ড খুশি হয়েছে সে। একদিন বিকেলে সাদি আর নিলয়কে
বললাম রেডি হ। এক জায়গায় যাবো। কোথায় যাবো বললাম না। একটা রাস্তার এক কোনায় তিনজন
দাঁড়িয়ে আছি। একটু দূরে আকিব এসে দাঁড়ালো। আমাদের দেখেনি। ৭ মিনিটের মাথায় কনাও
আসলো। ওরা দুজনে লাজুক ভঙ্গিমায় মিনিট দুএক কথা বলে রিক্সায় করে কোথাও একটা চলে
গেল। আমরা তিনজন দাঁড়িয়ে দেখলাম। সাদি বলল " দোস্ত আমাদের কাজটা কিন্তু খুব
একটা খারাপ না!"
আমি আর নিলয় একসাথে বলে উঠলাম "হ্যাঁ।"
#### তারেক সাকিব
#### তারেক সাকিব

No comments