Header Ads

Header ADS

আত্মহত্যা


আত্মহত্যা একটি যেন একটি সহজ একটি জিনিসে পরিণত হয়েছে বর্তমান প্রজন্মের জন্য। অনেকে অনেক কথা বলছেন।কথার শেষ নেই।আমি কারো কথাকে সমালোচিত করবো না। তবে কি কেও একবার ভেবেছে যে এর কারণ কি? গত এক মাসে তিনজন আত্মহত্যা করেছে । সবার নাম হয়ত কেও জানতেও পারেনি। কিন্তু এই আত্মহত্যার কারণ কি????? হতাশা? এই মায়ার পৃথিবী কেও ছাড়তে চায় না । কিন্তু তারা ছাড়তে সম্মত হয়। এটা কি সামান্য কিছু? না কখনই না?? তাদের অবস্থা হয়ত বোঝার কেও নেই। ধরা যাক ভিকারুননিসা স্কুল এর ছাত্রীটির কথাই বলি। সবাই বলছে বাবার অপমান সহ্য না করতে পেরে আত্মহত্যা করেছে। এই উপরের দিকটাই সবাই দেখবে।কেও গভীরে যাবে না।একটু অপমানের জন্যই কি এই কঠিন পথ বেছে নিয়েছে? না !!! তার ভেতরে অবশ্যই হতাশা আগে থেকেই ছিল।সে বলতে পারেনি। সে তার কষ্টগুলো প্রকাশ করতে পায়নি।আসলে অরিত্রি অধিকারি না আমাদের সবার এই জগতটি অতি ক্ষুদ্র। আমাদের ভাবনা প্রসারিত না। আমি মনে করি যদি কেও এই পৃথিবীর সৌন্দর্য একবার উপলব্ধি করে তবে কেও যদি জীবনের সৌন্দর্য একবার পায় তাহলে কখনো এই কঠিন পথ বেছে নিবে না। আর এই সুযোগ টুকুই দিচ্ছে না আমাদের সমাজ। আমাদের ভাবনাকে করে দেয় সঙ্কুচিত। আমাদের চিন্তার প্রসারতা একটি গণ্ডিতে আটকানো। ভালো রেজাল্ট ভালো চাকরি আর অর্থ কড়ি।এতে দোষ কাদের জানেন?? আমাদের পুরান প্রজন্মের। আমাদের বাবা মার কাছে আমার প্রশ্ন কখনো কি একবার আপনার ছেলে মেয়েটিকে বলেছেন বাবা একটু ভাব? কখনো কি বলেছেন একটু চিন্তা কর? আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা দেওয়া হয় বড় হবার।শিক্ষকরা বলেন বাবা পড় নাহলে ভালো বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে পারবে না। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে না পড়লে কিছু করতে পারবা না। বি সি এস ক্যাডার না হতে পারলে ভবিষ্যৎ ভালো হবে না।তাদের কথা যে খারাপ তা বলব না।তবে তাদের কাছে আমার প্রশ্ন আজ পর্যন্ত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কয়েক লক্ষ পাশ করে গিয়েছে। হাজার হাজার বি সি এস ক্যাডার রয়েছে।তাহলে আমার দেশের কেন এই অবস্থা? আমরা এখন কেন একদিনের খাবার জোগাড় করতে রাত দিন পরিশ্রম করে জীবনের আনন্দটুকু উপলব্ধি করার সময় পাই না?? কোন জবাব নেই?না।জানেন কারা আত্মহত্যা করে?? যাদের মনে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে না পড়লে কিছু করা যাবে না, বি সি এস ক্যাডার না হলে জীবন সফল হবে না। আমাদের দেশে পাবলিক প্রতি বছর পরিক্ষায় অংশ নেয় কয়েক লক্ষ শিক্ষার্থী এর মধ্যে ভর্তি হতে পারে কয়েক হাজার। তাহলে বাকিরা?? হে তারা আর সামনে আগানোর সাহস করে না । তারাই বেছে নেয় আত্মহত্যার পথ। এখন কি বলবেন দায়ি আপনারা না ?? আমরাই দায়ি?? দয়া করে আমাদের ভাবনার জগতটা বড় করতে দিন। আমাদের ভাবতে দিন। রবীন্দ্রনাথ কিংবা নজরুল কোন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পরেনি। তারা বি সি এস ক্যাডার ছিল না।তারা আত্মহত্যা করেনি বরং মৃত্যুকে ছিপিয়ে গিয়েছে বহুদুর।
আর আমার হতাশ ভাই বোনদের বলবো আত্মহত্যা কোন পথ না।আত্মহত্যা করার পরে তোমাকে কেও ভালো চোখে দেখবে না। তোমাকে দেখবে ব্যার্থতার প্রতীক হিসেবে। বিফল হয়েছ? কষ্ট পেয়েছ? অপমানিত করেছে? মনে রাখবে সময় তোমারও আসবে।যে অপমান করেছে তাকে তার উত্তম জবাব দাও যেন তারা পরে বলে না আমরা অপমান করে ভুল করিছিলাম।ব্যার্থ হয়েছ? তবে জেনে রাখো ব্যার্থতাই সফলতার সিঁড়ি।আত্মহত্যা করে সেই সিঁড়ি টাকে ভেঙ্গে তছনছ করে দিও না।সৃষ্টিকর্তা তোমাকে অসহায় করে পাঠাননি । যখন ব্যার্থ হবে তখন তুমি নিচের দিকে তাকাও দেখবে বেচে থাকার জন্য তারা কতোটা কষ্ট করছে।তুমি তাহলে কেন তোমার জীবনটাকে শেষ করবে? আর যখন আশা দেখবে তখন ওপরে তাকাও আর স্বপ্ন নিয়ে এগিয়ে যাও । এই দুনিয়ায় কোন শক্তি তৈরি হয়নি যে তোমাকে আটকাবে । সফলতা আশবেই ।ভাবতে শিখো জীবনকে উপলব্ধি কর।দেখবে জীবন অনেক সুন্দর।

No comments

Powered by Blogger.